গরমে ত্বকের যত্ন ও ঘরোয়া ফেসপ্যাক

গরমে ত্বকের যত্ন ও ঘরোয়া ফেসপ্যাক

গৃষ্ম কালে ঋতু পরিবর্তন যেমন হয় তেমনি আমাদের ত্বকের জন্য এ সময়ে কিছু অতিরিক্ত সর্তকতা অবলম্বন করা জরুরী। গৃষ্ম কালে আকাশচুম্বী রোদ থাকার এবং আবহাওয়া রুক্ষ হওয়ার কারণে আমাদের তকে খুব দ্রুত সান ট্যান পড়ে যায়, অতিরিক্ত ঘাম হয়, শরীরের সাথে সাথে গরমে ত্বকের যত্ন এও মলিনতা দেখা যায়।ত্বক অতিরিক্ত তেলতেলে ও কালচে হয়ে যায়। তাই এ সময় প্রয়োজন রাতে ত্বকের যত্ন ।

গরমে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের জন্য যেসকল যত্ন নিতে পারি:

সানস্ক্রিন- গ্রীস্ম ও বর্ষা যেই ঋতুই হোক না কেন সানস্ক্রিন ইস এ মাস্ট। স্বাস্থ্যকর উজ্জল লাবণ্যময় ত্বক ধরে রাখার জন্য ভালো এমাউন্টের এসপিএফ যুক্ত সানস্ক্রিন এপ্লাই করা উচিত। বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুযায়ী এসপি এফ পি এ প্লাস প্লাস ৫০ থাকাটা ভালো।

রোদের সংস্পর্শে আসবার ১৫ মিনিট পূর্বে দুই আঙ্গুল পরিমাণে সানস্ক্রিন নিয়ে পুরো মুখে ভালোভাবে এপ্লাই করে নিতে হবে এরপর 15 মিনিট পর বাইরে যাওয়া যাবে তবে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর সানস্ক্রিন রিএপ্লাই করা জরুরি।

গরমে ত্বকের যত্ন ও ঘরোয়া ফেসপ্যাক

অতিরিক্ত পানি পান করা ও গরমে ত্বকের যত্ন:

প্রতিদিন অন্তত দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি যা আমাদের শরীর এবং ত্বক দুটোর জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। গৃষ্ম কালে অনেক ঘাম হওয়ার কারণে শরীর থেকে পর্যাপ্ত পানি চলে যায় তাই ত্বক শুষ্ক রুক্ষ হয়ে যায় পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করলে এই পানির অভাব দূর হয়ে যাবে এবং ত্বকের সকল সমস্যা দূর হবে।

ভিটামিন যুক্ত ফলমূল শাকসবজি খাওয়া:

গৃষ্ম কাল এর প্রকৃতি প্রদত্ত অনেক রকমের মজাদার ফলমূল এবং শাকসবজি পাওয়া যায় যার গ্রহণের ফলে শরীরের ভিটামিন এর অভাব পূরণ হয় এবং খেতেও খুব সুস্বাদু হয় যার ফলে ত্বক ভেতর থেকে লাবণ্যময় হয়ে ওঠে।

ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা :

অনেকেরই ধারণা গরমে ত্বকের সমস্যা এবং গ্রীষ্মকালে আমাদের ত্বকের জন্য কোন ময়েশ্চারাইজারের দরকার নেই আসলে ব্যাপারটি খুবই খারাপ এবং একটি মিথ। গৃষ্ম কাল এর জন্য যেহেতু ত্বক এমনি রুক্ষ হয়ে যায় তাই জেল বেস অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যুক্ত মশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। কোন মসারাইজার ব্যবহার না করলে ত্বক খুব তাড়াতাড়ি বয়সের ছাপ ফেলবে এবং পিম্পল, একনে, হোয়াইট হেডস, ব্ল্যাক হেডস সহ নানান রকমের প্রবলেম হবে।

সঠিক ক্লিনজার বাছাই:

যেহেতু গরমের সময় টা আমরা বাইরে থাকি বাইরে অতিরিক্ত ধুলাবালি এবং রোদ আমাদের ত্বকে লোমকুপে বসে যায় যা খালি চোখে দেখা যায় না তাই বছরের অন্যান্য সময় এর ব্যবহার করা সাধারণ ক্লিনজার এ সময়ে ময়লা গুলো ত্বক থেকে ভালোভাবে উঠাতে পারে না।

প্রয়োজন ছাড়া মেকআপ না করা:

মেকআপ আমাদের মেয়েদের কাছে খুবই ভালো লাগে এবং অনেকের কাছে সখের বিষয় ব্যাপারটা ভালো কিন্তু অতিরিক্ত কোন কিছুই ভালো না। বিশেষ করে গৃষ্ম কাল এর সময়টায় ত্বকের জন্য দীর্ঘক্ষন মেকআপ করে রাখা ঠিক না তাই প্রয়োজনের তুলনায় কম মেকআপ করা দরকার এবং এ সময়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রোডাক্টগুলো বেছে নেওয়া দরকার।

ত্বকের জন্য ঘরোয়া সকল উপাদান খুবই ভালো কাজ করে যুগ যুগ থেকে আমাদের পূর্বপুরুষরা এসব দিয়েই রুপ চর্চা করত। এবার আমরা গৃষ্ম কাল এর উপযোগী ত্বকের যত্নের সাথে যাতে কিছু বাড়তি যত্নের জন্য ফেসপ্যাক গুলো জেনে নিচ্ছি

টক দই দিয়ে ফেসপ্যাক:

টক দই শরীরের সাথে সাথে ত্বকের জন্য খুবই ভালো একটি উপাদান অনেকেই মনে করে এটি তার জন্য ম্যাজিকাল ইনগ্রেডিয়েন্টস। যা যা লাগবে

১ টেবিল চামচ টক দই

২ টেবিল চামচ বেসন

১ টিজপুন গোলাপজল

এক ফোঁটা লেবুর রস ( যদি লেবুতে এলার্জি থাকে তাহলে বাদ দিবে )

টমেটোর ফেসপ্যাক:

এই ফেসপ্যাকটি তে টমেটোর সাথে আলু শসা এবং মসুরের ডাল ব্যবহার করা হয়েছে যা ত্বককে উজ্জ্বল করতে খুবই সাহায্য করে।

টমেটো জুস ১ টেবিল স্পুন

আলুর জুস ১ টেবিল স্পুন

শসার জুস ১ টেবিল স্পুন

মসুর ডাল ২ টেবিল স্পুন

পেঁপের ফেসপ্যাক:

পেঁপে গরমের সময় পাওয়া যায় এটি খেলে আমাদের শরীরে যেমন উপকার হয় তেমনি ত্বকের ক্ষেত্রেও খুবই ভালো কাজ করে

যা যা লাগবে,

পেঁপের পেস্ট ২ টেবিল স্পুন

কফি পাউডার ১ টেবিল স্পুন

আটা ১ টেবিল স্পুন

অ্যালোভেরা ফেসপ্যাক:

অ্যালোভেরা গরমে তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন জন্য বলতে পারা যায় ম্যাজিকেল একটি উপাদান কারণ অ্যালোভেরার সকল পুষ্টি উপাদান তোকে সব রকম সমস্যা থেকে মোটামুটি মুক্তি দেয় এই ফেসপ্যাকটি কোন কিছু ছাড়া শুধুমাত্র এলোভেরা ব্যবহার করলেও খুব ভালো কাজ করে।

যা যা লাগবে

৩ টেবিল স্পুন অ্যালোভেরা জেল

১ টেবিল স্পুন গোলাপজল

১ টেবিল স্পুন মুলতানি মাটি।

অস্ট্রিক মাস্ক:

অস্ট্রিক এক ধরনের মাটি যা দিয়ে ত্বকের অনেক রকমের সমস্যার সমাধান করা যায়। এটির উদ্ভাবন মূলত ইন্ডিয়ার একটি এলাকায় ভূমি খনন করার সময় আদিবাসীরা যখন ব্যথা পেত তখন তারা লক্ষ্য করতো সকল প্রকার ক্ষত সেখানে থাকা মাটির সংস্পর্শে থাকার কারণ নেই খুবই তাড়াতাড়ি সেরে যাচ্ছে এবং তোকেও ভালো লাগছে সে থেকে অ্যসট্রিকমাস্তের ব্যবহার শুরু।

ফেসপ্যাক এর জন্য যা যা লাগবে:

১ টেবিল স্পুন অস্ট্রিক মাস্ক

১ টিসস্পুন অ্যাপেল সিডার ভিনেগার

২ টিজপুন পানি

গ্রিন টি এবং এমনডের FACEPACK:

১ টেবিল চামচ চিনি, ১ টেবিল চামচ আটা, ১ চা চামচ আমন্ড গুঁড়ো এবং পরিমাণ মতো গ্ৰিন টি একসঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগান। ১৫-২০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। স্ক্র্যাবারটি সপ্তাহে দুদিন ব্যবহার করুন। এতে ত্বকের মৃতকোষ দূর হবে।

পাকা কলার ফেসপ্যাক:

ফেস মাস্ক তৈরি করতে ১ টি পাকা কলা, ১ চা চামচ গ্ৰিন টি, ১ চা চামচ মধু এবং ১ চা চামচ টক দই একসঙ্গে মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এটি শুষ্ক ত্বকের জন্য খুব ভালো ময়েশ্চারাইজিং মাস্ক হিসেবে কাজ করে।

শসা এবং মধুর ফেসপ্যাক:

এই প্যাক-টি তৈরি করার জন্য একটি কচি শসা গ্রেট করে নিন এবং এর সাথে যোগ করুন ১ টেবিল চামচ গোলাপ জল ও ১ টেবিল চামচ মধু। মিশ্রণটি ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে গরমে ছেলেদের ত্বকের যত্ন ত্বকে বা গরমে মেয়েদের ত্বকের যত্ন লাগিয়ে রাখুন প্রায় ২০-২৫ মিনিটের মতো। শুকিয়ে গেলে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

আইস‌ কিউব:

ত্বকের জন্য গৃষ্ম কালে বিভিন্ন রকমের আইস কিউব তৈরি করে আমরা ব্যবহার করতে পারি যেমন শসার রস, পেঁপের রস, টক দই, অ্যালোভেরার রস, গ্রীন টি এসব যেকোনো একটি দিয়ে আইস কিউব করে বাইরে থেকে এলে মুগ্ধ হওয়ার পরে তাকে এপ্লাই করলে খুবই রিল্যাক্সিং ফিল হবে এবং এটি উপকারিতা

এছাড়া সপ্তাহে তিন দিন ফ্রেশ স্ক্রাবিং করার জরুরি:

এক্ষেত্রে ফিজিক্যাল এক্সফলিয়েটর কিনবা কেমিক্যাল এক্সফলিয়াতর ব্যবহার করা যায়।

বাজারে অনেক রকমের কেমিক্যাল এক্সফলিয়েটর পাওয়া যায় সেগুলো থেকে একটি ছক অনুযায়ী বেছে নিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে আবার যদি ফিজিক্যাল দিয়ে চর ব্যবহার করতে হয় তাহলে ঘরোয়া উপাদান দিয়ে তৈরি কয়েকটি ফেস স্ক্রাব এর রেসিপি গুলো হল

চালের গুড়া, কফি, মিহি গুঁড়ো করা চিনি ব্যবহার করতে পারি এটি আলাদা কিংবা কোন ফেসপ্যাক এর উপাদান দিয়ে ও ব্যবহার করা যায় খুব সুন্দর করে হালকা হাতে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ত্বকে ম্যাসাজ করে অল্প সময় ধুয়ে ফেলতে হয় তাহলে খুব ভালো একটি রেজাল্ট পাওয়া যায় স্ক্রাবিংয়ের ফলে ত্বকের মৃত চামড়া গুলো চলে যায় এবং নতুন জামা গুলো সুন্দর ভাবে সফট ভাবে দেখা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back To Top