অর্গানিক কোন মেহেদি বানানো ও হাতে দেওয়ার নিয়ম ।

মেহেদী আমাদের কারনা পছন্দের? ছোট বড় সকল উৎসব-অনুষ্ঠানে কিংবা শখ করেই হোক মেয়েরা মেহেদী দিয়ে হাত রাঙাতে অনেক পছন্দ করে। মেহেদী শুধু সাজসজ্জার কাজেই না বরং চুলের যত্নেও অনেক বেশি উপকারী। এর রয়েছে অনেক ঔষধি গুণ। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বত্রই মেহেদির ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। আজকে আমরা মেহেদির ব্যবহার ও অর্গানিক কোন মেহেদি বানানোর পদ্ধতি সম্পর্কে জানব।

মেহেদির ইতিহাস:

নিওলিথিক বানব্যপ্রস্তর যুগ (১০০০০-৪০০০ খ্রী.পূ.) থেকে মেহেদির প্রথম ব্যবহার দেখাযায় উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যেরমরু অঞ্চলে। মনে করা হয় প্রায় ৯০০০ বছর পূর্বে মেরু বাসীরা প্রচন্ড গরম থেকে বাঁচার জন্য হাত ও পায়ে মেহেদী পেস্ট দিয়ে রাখত। এতে করে তারা প্রচন্ড গরম থেকে বাচতো এবং হাত পা ঠান্ডা রাখত। যখন তারা বুঝতে পারল যে মেহেদী বেশিক্ষণ রেখে শুকালে চমৎকার লাল রং হয়। এর থেকেই শুরু হলো মেহেদির সর্বোচ্চ ব্যবহার।

হাতে মেহেদি দেওয়ার নিয়ম ও হাত রাঙাতে মেহেদির ব্যবহার:

বর্তমানে মেয়েরা হাত রাঙাতে অর্থাৎ সাজসজ্জার ক্ষেত্রে মেহেদির ব্যাপক ব্যবহার করে, যদিও মেহেদী একটি প্রাকৃতিক রং প্রদানকারী উপাদান তবে সময় সাপেক্ষে এর কারণে বর্তমানে বাজারে অনেক ইনস্ট্যান্ট কালার প্রদানকারী মেহেদী এসেছে। এর ব্যবহারও অনেক তবে এরকম মেহেদির রং গুলো দুদিনেই চলে যায়। মেহেদি গাছ লাগানোর নিয়ম। এর জন্য এখন অর্গানিক হেনা পেস্ট এর কদর বেড়ে চলেছে। চা পাতা দিয়েও মেহেদী বানানো যায়। বাজারে এর মূল্য কিছুটা বেশি বলা যায়, তবে এরকম মেহেদির ব্যবহারে ত্বকের কোন ক্ষতি হয় না এবং খুব বেশি দিন থাকে, তাছাড়া বর্তমানে এরকম অনেক কেস হয়েছে ইনস্ট্যান্ট মেহেদী গুলো ব্যবহারে হাতে ফোসকা পড়ে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে, সবচেয়ে বড় কথা মুসলিমদের জন্য এটি খুবই ভয়াবহ কারণ ইনস্টল মেহেদির আস্তরন পড়ার ফলে ওযু এবং নামায হয় না। অর্গানিক মেহেদী গুলো ব্যবহারে ইউরোপ কোন সমস্যা নেই। কাভেরি মেহেদি এর ও গুনগান শোনা যায়।

অর্গানিক কোণ মেহেদি

ঘরে বসেই বাজারের মত অর্গানিক মেহেদি কোন বানানোর নিয়ম:

প্রাকৃতিক কোন মেহেদী বানাতে নিচের উপকরণগুলো প্রয়োজন।

উপকরণ সমূহ:

১. মেহেদি গাছের পাতার গুড়া ১০০ গ্রাম।

২. চিনি ৩০ গ্রাম।

৩. খাওয়ার পানি।

৪. যে কোনো রকমের অ্যাসেনশিয়াল অয়েল (টি ট্রি, ল্যাভেন্ডার, লেমন ওয়াটার ইত্যাদি)

৫. গিফট সিত্রু রেপিং পেপার।

৬. কসটেপ।

৭. কাঁচি।

৮. টুথপিক অথবা হিজাব পিন।

প্রস্তুত প্রণালীঃ

প্রথমে একটি বাটিতে 100 গ্রাম ভালো মানের অর্গানিক কোন মেহেদি গুড়া নিয়ে তাতে 30 গ্রাম চিনি মিশিয়ে নেই। এরপর 30ml এর মত লেবুর রস এবং যেকোনো অ্যাসেনশিয়াল অয়েল দিয়ে সাথে পরিমাণমতো পানি মিশিয়ে ভালোভাবে মেখে নিই। মনে রাখতে হবে মিশ্রণটিতে যেন কোন প্রকার শুকনো উপকরণে না যায় এবং চিনি গুলো যেন ভালোভাবে মিশে যায়।এরপর একটি প্লাস্টিক রেপ দিয়ে বাটিটি ভালো ভাবে আটকে দিই। প্রয়োজনে রপিং এর প্রক্রিয়াটি দুইবার করি। ২৪ ঘন্টার জন্য কোন শুকনো স্থানে বাটিকে রেখে দিই। এরপর আরো 5 থেকে 7 মিনিট মিশ্রনটিকে মিশিয়ে নিন। এখন একটি সুতির কাপড়ের মিশ্রনটিকে ছেঁকে নিই।

কোন তৈরি:

কোন তৈরীর জন্য প্লাস্টিক সাদা র্র্যাপিং পেপার একটু মুছে কোন আকারে মুড়িয়ে নেই। তৈরিকৃত কোনের মুখে হিজাব পিন দিয়ে পরিমাণ টিকে সেট করে নিন। টেপ দিয়ে ভালোভাবে কর্নার গুলো সিল করে নিব। এখন কোনে মেহেদি গুলো ভরে বাকি অংশ সুন্দর করে টেপ দিয়ে আটকে দিলেই হয়ে গেল মেহেদীর কোন।

চাইলে এরূপ কোন তৈরি করে বিক্রি করলে অনেক পরিমানে লাভ হবে। এতে করে অনেকেই ঘরে বসে স্বল্প পুঁজিতে লাভজনক ব্যবসা করতে পারবে।

আশা করি উপরোক্ত প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ করলে খুব ভালো একটি মেহেদী তৈরি করা সম্ভব।

বিভিন্ন রকমের আকর্ষণীয় আর্টিকেল পড়তে আমাদের হোমপেজে ভিজিট করুন । এবং এই আর্টিকেল ভাল লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।মেহেদি ডিজাইন ডিজাইন ২০২১ ছবি পেতে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back To Top
x